• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
Headline
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই ‘দোষী’! অপপ্রচার-যাচাইহীন সংবাদের শিকার সিডিএ প্রকৌশলী হাসান. রেল ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচার: নেপথ্যে দুদকের মামলার দুই শীর্ষ আসামি নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে পাল্টা চাল: রেলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের মরিয়া চেষ্টা। সৎ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ: বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশনের সভাপতি ওসি কামরুল হাসান জুয়েলকে ঘিরে বিতর্কে প্রতিবাদ ও নিন্দা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী রক্ষার লড়াই: সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর একক প্রচেষ্টায় বিপিসি চট্টগ্রামেই থাকছে। দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পে অবদানের স্বীকৃতি: বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সুবক্তগিনকে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার সম্মাননা ও কৃতজ্ঞতা। চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: নানামুখী চ্যালেঞ্জ, রাজনৈতিক প্রভাব ও জটিলতা মোকাবিলা করে দৃশ্যমান মেগা প্রকল্প. প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান: দক্ষতা, পরিকল্পনা ও দায়িত্ববোধের এক প্রতিচ্ছবি INTERNATIONAL MEDIA. World Wide Network বন্দরের কনটেইনার টেন্ডার: মাফিয়া কোম্পানির সুবিধায় বিশেষ শর্তের দেয়াল-চট্টগ্রাম বন্দরের টেন্ডার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি ব্যবসায়ীদের. দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দৈনিক ১৪-১৫ ঘণ্টা স্বেচ্ছাশ্রমে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী

রেল ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচার: নেপথ্যে দুদকের মামলার দুই শীর্ষ আসামি নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে পাল্টা চাল: রেলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের মরিয়া চেষ্টা।

Reporter Name / ৪২ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

রেল ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচার: নেপথ্যে দুদকের মামলার দুই শীর্ষ আসামি নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে পাল্টা চাল: রেলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের মরিয়া চেষ্টা।

নিজস্ব প্রতিবেদক,
বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং তাকে পদ থেকে সরাতে একজোট হয়ে মাঠে নেমেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। নিজেদের অতীত অপকর্ম, দুর্নীতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার দায় আড়াল করতেই রেলের বর্তমান ডিজিকে লক্ষ্য করে একের পর এক চক্রান্তের ফাঁদ পাতা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রান্তের নেপথ্যে রয়েছেন দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. রমজান আলী এবং এডিজি (আরএস) পদ থেকে অপসারিত বিতর্কিত কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব চৌধুরী।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাবেক প্রজেক্ট ডিরেক্টর (লাকসাম হতে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়াল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প), সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও জিআইবিআর পদ থেকে বরখাস্তকৃত মো. রমজান আলী (৫৬) এবং তার স্ত্রী দিলরুবা পারভীন ইলোর (৫২) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ পৃথক দুটি মামলা চলমান রয়েছে (মামলা নং ৫৭ ও ৫৪/২০২০)। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ দায়েরকৃত এজাহার অনুযায়ী, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭(১) ধারা এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তাদের অভিযুক্ত করা হয়।
offset
অন্যদিকে, এই চক্রান্তের পেছনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন এডিজি আরএস (অতিরিক্ত মহাপরিচালক – রোলিং স্টক) পদ থেকে অপসারিত আহমেদ মাহবুব চৌধুরী। ১২৫টি লাগেজ ভ্যান ক্রয়ে অবাস্তব ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করে সরকারি প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামি তিনি। ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধেও মামলা বিচারাধীন।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের দুর্নীতির মামলায় শাস্তি এড়াতে এবং ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে বরখাস্তকৃত রমজান আলী ও অপসারিত আহমেদ মাহবুব চৌধুরী একটি সিন্ডিকেট গঠন করে রেলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ঘোলাটে করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই চক্রটি টাকার বিনিময়ে কিছু মাধ্যমকে ব্যবহার করে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দুদকের মামলার আসামি ও বিতর্কিত কর্মকর্তা রমজান আলীর একপেশে বক্তব্যকে হাতিয়ার বানিয়ে ডিজির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করানো হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রেলওয়ের সর্বস্তরে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাছাড়া, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের অডিট আপত্তির অধিকাংশ বিষয় যেখানে নিষ্পত্তির পথে, সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাঁচজন ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) দায় বর্তমান একক ব্যক্তির ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বর্তমান মহাপরিচালক পদে নিয়োগ নিয়েও যে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাও বাস্তবতাবর্জিত ও কেবল হয়রানি করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
এ বিষয়ে কথা বললে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন বলেন, “রেলওয়েতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা ব্যাহত করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা নিজেরা দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের দায়ে চাকরি হারিয়েছেন এবং দুদকের মামলার আসামি, তারাই মূলত এই চক্রান্তের নেপথ্যে রয়েছে। মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন বা চক্রান্ত করে রেলের সংস্কার থামানো যাবে না; সত্যের জয় সবসময়ই হবে।”
জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। রেলের যেসব কর্মকর্তা বা সাবেক কর্মকর্তা দুর্নীতি করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করেছেন—যেমন লাগেজ ভ্যান ক্রয়ে কোটি কোটি টাকার অপচয় বা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন—তাদের বিরুদ্ধে দুদক ও আইনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। অপপ্রচার চালিয়ে বা মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের অপরাধ ঢাকা যাবে না। রেলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী চক্র ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটটি তাদের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও দুর্নীতির দায়ে বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসেবেই বর্তমান ডিজির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে। অনতিবিলম্বে এ চক্রটির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা